রোজা
নাজমুল ইসলাম
لِكُلِّ شَيْءٍ زَكَاةٌ وَزَكَاةُ الْجَسَدِ الصَّوْمُ প্রত্যেক বস্তুর যাকাত আছে। আর রোজা হলো শরীরের যাকাত। [১]
রমজান মাস
আরবি বছরের নবম মাস পবিত্র মাহে রমজান। রমজান শব্দটি ‘রমদুন’ ধাতু থেকে উদ্গত যার অর্থ জ্বালিয়ে দেয়া। যেহেতু রোজাদারের পেট ক্ষুধার তীব্রতায় জ্বলতে থাকে বা এ মাসের নেক আমলসমূহ বদ আমলসমূহকে জ্বালিয়ে ভস্ম করে দেয়, তাই এর নাম রমজান। [২]
রোজার পরিচয়
আরবিতে সওম (الصوم) শব্দের অর্থ বাংলায় রোজা বা বিরত থাকা। শরিয়তের পরিভাষায় সুবহে সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত নিয়ত সহকারে পানাহার এবং স্ত্রী সহবাস হতে বিরত থাকাকে সওম বা রোজা বলে। [৩]
পূর্বযুগে রোজার বিধান
রোজা রাখার বিধান সর্বযুগে ছিল। হযরত আদম (আ.) থেকে মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পর্যন্ত সকল নবী-রাসূলের যুগেই রোজার বিধান ছিল। (রূহুল মাআনী- ১/৪৫৩) এদিকে ইঙ্গিত করেই পবিত্র কুরআনে ইরশাদ হয়েছে- “হে মুমিনগণ! তোমাদের জন্য সিয়াম ফরজ করে দেয়া হলো, যেমন তোমাদের পূর্ববর্তীদেরকে দেয়া হয়েছিল। যাতে তোমরা তাকওয়া হাসিল করতে পার।” [৪]
রোজার বিধান
প্রাপ্তবয়স্ক, সুস্থ মস্তিষ্ক, মুসলিম, পুরুষ-মহিলা সকলের ওপরই রমজান মাসে সওম পালন করা ফরজ। কোনো প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি যদি বিনা ওজরে তা না রাখে তবে কঠিন গুনাহগার হবে, একে অস্বীকারকারী কাফের হয়ে যাবে। [৫]
ফরজ হওয়ার সময়কাল
রমজানের সওম ফরজ হওয়া সংক্রান্ত আয়াত হিজরতের দেড় বছর পর শাবান মাসের দশ তারিখে নাজিল হয়েছিল। [৬]
রোজার ফজিলত
রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন- “যে ব্যক্তি ঈমানসহ সওয়াবের আশায় সওম পালন করে তার অতীতের সমস্ত গুনাহ মাফ করে দেয়া হবে।” [৭] আবার হাদিসে কুদসীতে রয়েছে- “আল্লাহ পাক বলেন রোজা আমারই জন্য আর আমিই এর প্রতিদান দেব।” [৮] মাহে রমজানে কৃত নফল ইবাদত ফরজের তুল্য আর একেকটি ফরজ সত্তরটি ফরজ ইবাদতের সমান। [৯]
রোজার গুরুত্ব ও তাৎপর্য
রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন- কেউ যদি শরয়ী কোনো ওজর বা অসুস্থতা না থাকা সত্ত্বেও রমজানের কোনো একটি রোজা না রাখে, তবে জীবনভর রোজা রাখলেও এর বদলা হবে না। [১০]
রোজার লক্ষ্য
রোজার মূল লক্ষ্য হচ্ছে তাকওয়া অর্জন। আল্লাহ তাআলার ঘোষণা, “হে মুমিনগণ! তোমাদের জন্য সিয়াম ফরজ করে দেয়া হলো- যাতে তোমরা তাকওয়া হাসিল করতে পারো।” [১১] রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন, “যে ব্যক্তি (সিয়াম সাধনার পরও) মিথ্যা কথা ও কাজ বর্জন করতে পারে না, তার পানাহার পরিত্যাগ করাতে আল্লাহর কোনোই প্রয়োজন নেই।” [১২]
রোজার সময়
রোজার সময় হলো সুবহে সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত। [১৩]
রোজা ফরজ হওয়ার শর্তাবলী
১. মুসলমান হওয়া। ২. জ্ঞানবান হওয়া। ৩ বালিগ হওয়া। [১৪]
রোজা আদায় ওয়াজিব হওয়ার শর্তাবলী
১. সুস্থ থাকা। ২. মুকীম হওয়া। [১৫]
রোজা সহীহ হওয়ার শর্তাবলী
১. নিয়ত করা। ২. মহিলা হায়েজ ও নিফাসমুক্ত থাকা। [১৬]
রোজার ফরজ
১. নিয়ত করা। ২. পানাহার ও স্ত্রী সহবাস থেকে বিরত থাকা বা রোজা ভঙ্গ হয় এমন সমস্ত কাজ থেকে বিরত থাকা। [১৭]
রোজার আদব
১. যথাসম্ভব দেরি করে সাহরি খাওয়া মুস্তাহাব। তবে এতো বেশি দেরি করবে না যে সুবহে সাদিক হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা হয় এবং রোজার ব্যাপারে সন্দেহ সৃষ্টি হয়ে যায়। ২. সূর্যাস্তের পর বিলম্ব না করে শীঘ্রই খেজুর দ্বারা ইফতার করা সুন্নত। [১৮] ৩. সকল প্রকার অশ্লীলতা, মিথ্যা, ধোকাবাজি, ছলচাতুরি, গীবত-শেকায়েত থেকে বেঁচে থাকা। [১৯]
(তোহফায়ে রমজানুল মুবারক, দারুন্নাজাত সিদ্দিকীয়া কামিল মাদ্রাসা) (পরিমার্জিত) [২০]
রোজা ভঙ্গ হওয়ার কারণসমূহ
মুখ, নাক এবং মলদ্বার দিয়ে খাদ্যনালী, পাকস্থলী এবং নাড়িভুঁড়িতে কোন বস্তু প্রবেশ করলে রোজা ভেঙে যায়। ইচ্ছা করে স্ত্রী সহবাস বা হস্তমৈথুন করলেও রোজা ভাঙে। এগুলো সাধারণ কথা।
রোজা ভাঙার শাখা গত কিছু বিষয় তুলে ধরা হলো- ১. ভুলে খাওয়া বা পান করার পর রোজা ভেঙে গেছে মনে করে আবার ইচ্ছাকৃতভাবে খাওয়া বা পান করা। [২১] ২. বিড়ি-সিগারেট বা হুকা সেবন করা। (ইচ্ছে করে আগরবাতি কয়েল বা অন্য কোন ধোঁয়া টেনে ভেতরে নেওয়া)। [২২] ৩. কাঁচা চাল, আটার খামির বা একত্রে অনেক লবণ খাওয়া। [২৩] ৪. এমন কোনো বস্তু খাওয়া, যা সাধারণত খাওয়া হয় না। যেমন- কাঠ, লোহা, কাগজ, পাথর, মাটি, কয়লা ইত্যাদি। [২৪] ৫. পাথর, কাদা মাটি, কঙ্কর, তুলা-সুতা, তৃণলতা, খড়কুটো ও কাগজ গিলে ফেলা। [২৫] ৬. নিজের থুতু হাতে নিয়ে গিলে ফেলা। [২৬] ৭. ভুলে স্ত্রী সম্ভোগের পর রোজা ভেঙে গেছে মনে করে— আবার স্ত্রীর সঙ্গে সহবাস করা। [২৭] ৮. কানে বা নাকের ছিদ্র দিয়ে তরল ওষুধ দেওয়া (এবং তা গলায় চলে যাওয়া)। [২৮] ৯. দাঁত দিয়ে রক্ত বের হলে যদি তা থুতুর চেয়ে পরিমাণে বেশি হয় এবং কণ্ঠনালীতে চলে যায়। [২৯] ১০. মুখে পান দিয়ে ঘুমিয়ে যাওয়া এবং এ অবস্থায় সুবহে সাদিক করা। [৩০] ১১. হস্তমৈথুন করা। [৩১] ১২. রোজা স্মরণ থাকা অবস্থায় কুলি কিংবা নাকে পানি দেওয়ার সময় কণ্ঠনালীতে পানি চলে যাওয়া। [৩২] ১৩. বাধ্য হয়ে পানাহার করলে। [৩৩] ১৪. রাত মনে করে সুবহে সাদিকের পর সাহরি খাওয়া। [৩৪] ১৫. ইচ্ছাকৃতভাবে মুখভরে বমি করা বা বমি আসার পর তা গিলে ফেলা (বমি এসে একা একা চলে গেলে রোজা ভাঙে না)। [৩৫] ১৬. সূর্যাস্ত হয়ে গেছে মনে করে ভুলে দিনে ইফতার করা। [৩৬] ১৭. যদি কেউ রাত ধারণা করে স্ত্রী সহবাসে লিপ্ত হয়ে যায়, অতঃপর সুবহে সাদিকের কথা জানতে পেরে তৎক্ষণাৎ সহবাস থেকে বিরত হয়ে যায়। [৩৭] ১৮. বৃষ্টি বা বরফের টুকরো খাদ্যনালীর ভেতরে চলে গেলে রোজা ভেঙে যায়। [৩৮]
রোজা ভঙ্গ হলে করণীয়
বিনা কারণে রোজা ভঙ্গ করলে তাকে অবশ্যই কাজা-কাফফারা উভয়ই আদায় করা ওয়াজিব। যতটি রোজা ভঙ্গ হবে, ততটি রোজা আদায় করতে হবে। কাজা রোজা একটির পরিবর্তে একটি অর্থাৎ রোজার কাজা হিসেবে শুধু একটি রোজাই যথেষ্ট।
কাফফারা আদায়ের তিনটি বিধান রয়েছে- ক. একটি রোজা ভঙ্গের জন্য একাধারে ৬০টি রোজা রাখতে হবে। কাফফারা ধারাবাহিকভাবে ৬০টি রোজার মাঝে কোনো একটি ভঙ্গ হলে আবার নতুন করে শুরু করতে হবে। খ. যদি কারও জন্য ৬০টি রোজা পালন সম্ভব না হয় তবে ৬০ জন মিসকিনকে দুই বেলা খাওয়াতে হবে। কেউ অসুস্থতাজনিত কারণে রোজা রাখার ক্ষমতা না থাকলে ৬০ জন ফকির, মিসকিন, গরিব বা অসহায়কে প্রতিদিন দুই বেলা করে পেটভরে খাওয়াতে হবে। গ. গোলাম বা দাসী আজাদ করে দিতে হবে।
যেসব কারণে রমজান মাসে রোজা ভঙ্গ করা যাবে
মুসাফির অবস্থায়।
রোগ-ব্যাধি বৃদ্ধির বেশি আশঙ্কা থাকলে।
মাতৃগর্ভে সন্তানের ক্ষতির আশঙ্কা থাকলে।
এমন ক্ষুধা বা তৃষ্ণা হয়, যাতে মৃত্যুর আশঙ্কা থাকতে পারে।
শক্তিহীন বৃদ্ধ হলে।
কোনো রোজাদারকে সাপে দংশন করলে।
মহিলাদের মাসিক হায়েজ-নেফাসকালীন।
এসব ব্যক্তি রোজার অবশিষ্ট সময় যেভাবে কাটাবে- ১. অসুস্থতা, বার্ধক্য ইত্যাদি শরিয়তসম্মত কোনো সমস্যার কারণে কেউ রমজানের রোজা রাখতে সক্ষম না হলে— সে পানাহার করতে পারবে। তবে রোজাদারদের অগোচরে পানাহার করা উচিত। ২. মুসাফির যদি দিনের বেলা সফর থেকে বাড়ি ফিরে আসে তাহলে অবশিষ্ট দিন পানাহার থেকে বিরত থাকবে। [৩৯] ৩. তদ্রূপ দিনের বেলা কোনো মহিলার পিরিয়ড বন্ধ হলে অবশিষ্ট দিন পানাহার থেকে বিরত থাকবে। [৪০]
রোজা মাকরুহ হওয়ার কারণসমূহ:
১. বিনা প্রয়োজনে কোনো কিছুর স্বাদ গ্রহণ করা বা চিবানো। তবে কোনো নারীর স্বামী কঠোর স্বভাবের হলে স্ত্রীর জন্য তরকারির স্বাদ পরীক্ষা করা মাকরুহ নয়। ২. এমনভাবে কুলি করা কিংবা নাকে পানি পৌঁছানো যে পানি ভেতরে প্রবেশের আশঙ্কা হয়। [৪১] ৩. ইচ্ছাকৃতভাবে মুখে অনেক থুতু জমা করে গিলে ফেলা। ৪. কয়লা, মাজন বা টুথপেস্ট দ্বারা দাঁত মাজা। ৫. বিনা প্রয়োজনে কোন কিছু চিবানো। তবে দরকারে শিশুকে খাদ্য চিবিয়ে দেওয়া যায়। রোজাদার নারী তার বাচ্চার জন্য খাদ্য চিবানোকে ইব্রাহিম নাখায়ী (রহ.) দোষের বিষয় মনে করতেন না। [৪২] ৬. ইস্তিঞ্জায় অধিক পানি ব্যবহার করা। ৭. পানিতে বায়ু নিঃসরণ করা। ৮. গীবত-শেকায়েত করা, মিথ্যা বলা, গালিগালাজ করা, টিভি-সিনেমা ইত্যাদি দেখা, গান-বাদ্য শ্রবণ করা এবং যে কোনো বড় ধরনের গুনাহে লিপ্ত হওয়া। “তোমাদের কেউ যখন রোজা রাখে, তখন সে যেন অশালীন কথাবার্তা না বলে ও হইচই না করে।” [৪৩] ৯. রোজা অবস্থায় শরীর থেকে ইচ্ছাকৃতভাবে ইনজেকশন ইত্যাদির মাধ্যমে এ পরিমাণ রক্ত বের করা মাকরুহ, যার দ্বারা রোজাদার খুব দুর্বল হয়ে যায়। সাবেত আল বুনানি রহ. বলেন, হযরত আনাসকে রা. জিজ্ঞাসা করা হলো রোজা অবস্থায় শিঙ্গা লাগানোকে কি আপনারা মাকরুহ মনে করতেন? তিনি বলেন, ‘না। তবে এ কারণে দুর্বল হয়ে পড়লে তা মাকরুহ হবে।’ [৪৪] ১০. বীর্যপাত কিংবা সহবাসের আশঙ্কা থাকাবস্থায় স্ত্রীকে চুম্বন করা। [৪৫] ১১. স্ত্রীর ঠোঁটে চুম্বন করা— বীর্যপাত বা সহবাসের আশঙ্কা থাকুক বা না থাকুক। [৪৬] ১২. বিবস্ত্র অবস্থায় স্ত্রীকে আলিঙ্গন করা। [৪৭] ১৩. রোজা অবস্থায় মাথায় পানি ঢালা এবং ভেজা কাপড় শরীরে জড়িয়ে রাখা। [৪৮] ১৪. বিনা ওজরে গ্লুকোজ জাতীয় ইনজেকশন (যা খাদ্যের চাহিদা মেটায়) নেওয়া মাকরুহ। [৪৯] ১৫. এমন কাজ করা মাকরুহ যা দ্বারা রোজাদার নিতান্ত দুর্বল হয়ে পড়ে। যার কারণে রোজার প্রতি বিরক্তিভাব আসে। যেমন— রোজা রেখে প্রচণ্ড ভারি কাজ করা অথবা রোজা রেখে শিঙ্গা লাগানো/ রোজা রেখে রক্তদান। [৫০]
যে কারণে রোজা ভঙ্গ হয় না
১. কোনো রোজাদার রোজার কথা ভুলে গিয়ে পানাহার করলে তার রোজা নষ্ট হবে না। তবে রোজার কথা স্মরণ হওয়া মাত্রই পানাহার ছেড়ে দিতে হবে। [৫১] ২. রোজা রেখে রোজার দিনে চোখে ওষুধ-সুরমা ইত্যাদি লাগালে রোজার কোনো ক্ষতি হয় না। [৫২] ৩. রাতে স্ত্রী সহবাস করলে বা স্বপ্নদোষ হলে সুবহে সাদিকের আগে গোসল করতে না পারলেও রোজার কোনো ক্ষতি হবে না। তবে কোনো ওজর ছাড়া (বিশেষত রোজা অবস্থায়) দীর্ঘ সময় অপবিত্র থাকা অনুচিত। [৫৩] ৪. বীর্যপাত ঘটা বা সহবাসে লিপ্ত হওয়ার আশঙ্কা না থাকলে রোজার দিনে স্ত্রীকে চুমু খাওয়া জায়েজ। তবে কামভাবের সঙ্গে চুমু খাওয়া যাবে না। আর যুবকদের যেহেতু এমন আশঙ্কা থাকে, তাই তাদের এটা এড়িয়ে চলা উচিত। [৫৪] ৫. অনিচ্ছাকৃত বমি হলে (মুখ ভরে হলেও) রোজা ভাঙবে না। তেমনি বমি মুখে এসে নিজে নিজে ভেতরে চলে গেলেও রোজা ভাঙবে না। [৫৫] ৬. রোজা রেখে শরীর বা মাথায় তেল ব্যবহার করলে রোজা ভাঙবে না। অনুরূপভাবে রোজার দিনে নখ বা চুল কাটলেও রোজার কোনো ক্ষতি হবে না। [৫৬] ৭. রোজা রেখে শুধু যৌন চিন্তার কারণে বীর্যপাত হলে রোজা ভাঙবে না। তবে এ কথা বলাই বাহুল্য যে, সব ধরনের কুচিন্তা তো এমনিতেই গুনাহ। আর রোজা রেখে তো তা আরও বড় অপরাধ। তাই এগুলো এড়িয়ে চলা জরুরি। [৫৭] ৮. কামভাবের সঙ্গে কোনো মেয়ের দিকে তাকানোর ফলে কোনো ক্রিয়া-কর্ম ছাড়াই বীর্যপাত হলে রোজা ভাঙবে না। তবে রোজা অবস্থায় স্ত্রীর দিকেও এমন দৃষ্টি দেয়া অনুচিত। আর অপাত্রে কুদৃষ্টি দেয়া তো গুনাহ, যা রোজা অবস্থায় আরও ভয়াবহ। এতে ওই ব্যক্তি রোজার ফজিলত ও বরকত থেকে মাহরূম হয়ে যায়। [৫৮] ৯. মশা-মাছি, কীট-পতঙ্গ ইত্যাদি অনিচ্ছাকৃত পেটে ঢুকে গেলেও রোজা ভাঙবে না। অনুরূপ ধোঁয়া বা ধূলিবালি অনিচ্ছাকৃতভাবে গলা বা পেটের ভেতর ঢুকে গেলে রোজা ভাঙবে না। [৫৯] ১০. রোজার দিনে রোজা অবস্থায় স্বপ্নে পানাহার করলে বা কারো স্বপ্নদোষ হলে রোজা ভাঙবে না। [৬০] ১১. চোখের দু-এক ফোঁটা পানি মুখে চলে গেলে রোজার ক্ষতি হয় না। তবে তা যদি গলার ভেতর চলে যায়, তাহলে রোজা ভেঙে যাবে। [৬১] ১২. সুস্থ অবস্থায় রোজার নিয়ত করার পর যদি অজ্ঞান বা অচেতন হয়ে যায়, তাহলে রোজা নষ্ট হবে না। [৬২]
রোজা অবস্থায় যে বিষয় গুলো থেকে বিরত থাকা উচিত
১. দৃষ্টিকে গুনাহ থেকে বিরত রাখা- যেমন— যে কোনো নারী বা মেয়েদের খারাপ দৃষ্টিতে দেখা, সেটা থেকে নিজেকে হেফাজত করা। তা সরাসরি দেখা হোক বা টিভি-সিনেমায় দেখা হোক বা ম্যাগাজিন ও পত্রিকার ছবিতে হোক। অনেকে রোজা রেখে অবসর সময় নাটক-সিনেমা দেখে কাটান। এতে তাদের রোজার সওয়াব কমে যায়। ২. মুখের হেফাজত করা- মিথ্যা, গীবত, পরনিন্দা, অশালীন কথাবার্তা ও ঝগড়া থেকে বিরত থাকা। হাদিসে এসেছে, ‘যে ব্যক্তি রোজা অবস্থায় মিথ্যাচার ও মন্দ কাজ ত্যাগ করেনি, তার পানাহার ত্যাগে আল্লাহর কোনো প্রয়োজন নেই।’ [৬৩] অন্য এক হাদিসে এসেছে, ‘রোজা অবস্থায় তোমাদের কেউ যেন অশালীন কথা না বলে এবং শোরগোল, হট্টগোলে লিপ্ত না হয়। যদি কেউ তার সঙ্গে গালিগালাজ বা মারামারি-কাটাকাটিতে লিপ্ত হতে চায়, তবে সে (অনুরূপ আচরণ না করে) বলবে, আমি রোজাদার।’ [৬৪] এতে থেকে বোঝা যায়, রোজা অবস্থায় মারামারি ও ঝগড়া তো দূরের কথা, শোরগোল করাও রোজার আদব পরিপন্থী। তাই জবানকে এসব থেকে বিরত রেখে সর্বদা জিকির-আজকার ও কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে তরতাজা রাখতে হবে। ৩. কানের হেফাজত করা- রোজা রেখে গান-বাজনা, গীবত, পরনিন্দা ও অশালীন কথাবার্তা শোনা থেকে বিরত থাকতে হবে। ৪. খারাপ কাজ থেকে বিরত রাখা- অন্যান্য অঙ্গপ্রত্যঙ্গকে খারাপ কাজ থেকে বিরত রাখা। যেমন হাত-পা ইত্যাদি কেউ গুনাহ ও খারাপ কাজ থেকে বিরত রাখা। ৫. সেহরি ও ইফতারে হারাম খাবার পরিহার করা- ইমাম গাজালী রহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন, ‘যে ব্যক্তি সারাদিন রোজা রেখে হারাম মাল দ্বারা ইফতার করে, সে যেন একটি অট্টালিকা নির্মাণ করে, আর একটি শহর ধ্বংস করে।’ ৬. অন্তরকেও গুনাহ থেকে বিরত রাখা- রোজা রেখে গুনাহের কাজের কল্পনা করা, পেছনের গুনাহের কথা স্মরণ করে স্বাদ গ্রহণ করা, অহংকার, হিংসা, কুধারণা ইত্যাদি থেকে অন্তরকে হেফাজত করা।
রোজা সম্পর্কিত কিছু আধুনিক মাসায়েল
১. মস্তিষ্ক অপারেশন: রোজা অবস্থায় মস্তিষ্ক অপারেশন করলে রোজা ভঙ্গ হবে না। যদিও মস্তিষ্কে কোন তরল কিংবা শক্ত ওষুধ ব্যবহার করা হয়। কেননা মস্তিষ্ক থেকে গলা পর্যন্ত সরাসরি কোন ছিদ্র ও পথ নেই। তাই মস্তিষ্কে কোন কিছু দিলে তা গলায় পৌঁছে না। পূর্ব যুগে ছিদ্র ও পথ আছে ধারণা করেই এতে রোজা ভেঙে যাওয়ার কথা বিভিন্ন কিতাবাদিতে উল্লেখ রয়েছে। ২. কানে ওষুধ বা ড্রপ ব্যবহার: কানে ড্রপ, ওষুধ, তেল ও পানি ইত্যাদি দিলে রোজা ভঙ্গ হবে না। কারণ, কান থেকে গলা পর্যন্ত কোন রাস্তা নেই। তাই কানে কিছু দিলে তা গলায় পৌঁছে না। আদি যুগে ছিদ্র পথ আছে বলে ধারণা করা হতো বিধায় সে যুগের কিতাবাদিতে রোজা ভেঙে যাওয়ার কথা উল্লেখ রয়েছে। ৩. চোখে ওষুধ বা ড্রপ ব্যবহার: চোখে ড্রপ, সুরমা ও মলম ইত্যাদি ব্যবহার করলে রোজা ভঙ্গ হবে না। যদিও এগুলোর স্বাদ গলায় উপলব্ধি হয়। কারণ চোখে কিছু দিলে রোজা না ভাঙার কথা হাদিস দ্বারা প্রমাণিত। ৪. নাকে ওষুধ বা ড্রপ ব্যবহার: নাকে ড্রপ, পানি ইত্যাদি দিয়ে ভেতরে টেনে নিলে রোজা ভঙ্গ হয়ে যাবে। কারণ নাক রোজা ভঙ্গ হওয়ার গ্রহণযোগ্য রাস্তা। নাকে ড্রপ ইত্যাদি দিলে তা গলা পর্যন্ত পৌঁছে যায়। ৫. অক্সিজেন (OXYGEN) ব্যবহার: নাকে অক্সিজেন নিলে রোজা ভঙ্গ হবে না। কারণ অক্সিজেন দেহবিশিষ্ট কোন বস্তু নয়। রোজা ভঙ্গ হতে হলে দেহবিশিষ্ট কোন বস্তু দেহের অভ্যন্তরীণ গ্রহণযোগ্য জায়গায় পৌঁছাতে হয়। ৬. মুখে ওষুধ ব্যবহার: মুখে কোন ওষুধ ব্যবহার করে তা গিলে ফেললে রোজা ভেঙে যাবে। চাই তা যতই অল্প হোক। ৭. সালবুটামল (SALBUTAMOL), ইনহেলার (INHALER) ব্যবহার: সালবুটামল, ইনহেলার ব্যবহার করলে রোজা ভঙ্গ হয়ে যাবে। শ্বাস কষ্ট দূর করার জন্য ওষুধটি মুখের ভেতর স্প্রে করা হয়। এতে যে জায়গায় শ্বাসরুদ্ধ হয় ঐ জায়গাটি প্রশস্ত হয়ে যায়। ফলে শ্বাস চলাচলে আর কোন কষ্ট থাকে না। ওষুধটি যে শিশিতে যে পরিমাণে থাকে ঐ শিশির মুখ একবার টিপলে শিশির আকারভেদে ঐ পরিমাণের একশত কিংবা দুইশত ভাগের এক ভাগ বেরিয়ে আসে। অতি স্বল্প পরিমাণে গ্যাসের ন্যায় বের হওয়ার কারণে কেউ ওষুধটিকে বাতাস জাতীয় মনে করতে পারে। কিন্তু বাস্তবে এমন নয় বরং ওষুধটি দেহবিশিষ্ট। কাঠ ইত্যাদি কোন বস্তুতে স্প্রে করলে দেখা যায় যে, ঐ বস্তুটি ভিজে গেছে। তাই এতে রোজা ভঙ্গ হয়ে যাবে। অনেকে ইনহেলার ব্যবহারের ক্ষেত্রে ওজরের কথা বলেন, কিন্তু ক্ষুধার কারণে খাবার খেলেও যেমন রোজা ভেঙে যায়, তেমনি অসুস্থতার জন্য ওষুধ খেলেও রোজা ভেঙে যাবে। তবে ইনহেলার স্প্রে করার পর যদি তা না গিলে থুতু দিয়ে বাইরে ফেলে দেওয়া হয়, তবে রোজা ভাঙবে না। ৮. এন্ডোস্কোপি (ENDOSCOPY): এন্ডোস্কোপি করালে রোজা ভঙ্গ হবে না। চিকন একটি পাইপ মুখ দিয়ে ঢুকিয়ে পাকস্থলীতে পৌঁছানো হয়। পাইপটির মাথায় বাল্ব জাতীয় একটি বস্তু থাকে। পাইপটির অপর প্রান্তে থাকা মনিটরের মাধ্যমে রোগীর পেটের অবস্থা নির্ণয় করা হয়। এতে কোনো মেডিসিন লাগানো না থাকলে রোজা ভাঙবে না। তবে নলের ভেতর দিয়ে পানি ছিটানো হলে রোজা ভেঙে যাবে। ৯. নাইট্রোগ্লিসারিন (NITROGLYCERINE): নাইট্রোগ্লিসারিন ব্যবহার করলে রোজা ভঙ্গ হয়ে যাবে। অ্যারোসল জাতীয় একটি ওষুধ যা হার্টের রোগীদের জিহ্বার নিচে ২/৩ ফোঁটা দিয়ে মুখ বন্ধ করে রাখা হয়। এর কিছু অংশ গলায় পৌঁছানোর প্রবল সম্ভাবনা থাকে। তবে ব্যবহার করে যদি না গিলে থুতুর সাথে ফেলে দেওয়া হয়, তবে ভাঙবে না। ১০. ওষুধ সেবন করে হায়েজ বন্ধ করে রোজা রাখা: মহিলারা যদি ওষুধ সেবন করে পিরিয়ড বন্ধ রাখে তবে তাদের রোজা হয়ে যাবে এবং নামাজ-রোজা সব আদায় করতে হবে। তবে পিরিয়ড একটি স্বাভাবিক বিষয়, এটি বন্ধ করা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। ১১. রক্ত দেওয়া ও নেওয়া: রক্ত দিলে অথবা নিলে কোন অবস্থাতেই রোজা ভঙ্গ হবে না। কারণ রক্ত দিলে শরীর থেকে কিছু বের হয়, ভেতরে ঢুকে না। আর রক্ত নিলেও তা গ্রহণযোগ্য খালি জায়গায় বা গ্রহণযোগ্য রাস্তা দিয়ে প্রবেশ করে না। ১২. এনজিওগ্রাম (ANGIOGRAM): এনজিওগ্রাম করলে রোজা ভঙ্গ হবে না। হার্টের রক্তনালী ব্লক হয়ে গেলে উরুর গোড়ার দিকে কেটে একটি বিশেষ ধমনীর ভেতর দিয়ে ক্যাথেটার ঢুকিয়ে পরীক্ষা করাকে "এনজিওগ্রাম" বলে। এতে রোজা ভাঙবে না। ১৩. ইনজেকশন (INJECTION): ইনজেকশন নিলে রোজা ভঙ্গ হবে না। চাই তা গোশতে নেওয়া হোক কিংবা রগে। কারণ ইনজেকশন নেওয়ার রাস্তাটি রোজা ভঙ্গের গ্রহণযোগ্য ছিদ্র নয়। ১৪. স্যালাইন (SALINE): স্যালাইন নিলে রোজা ভঙ্গ হবে না। কারণ স্যালাইন নেওয়া হয় রগে। তবে রোজার দুর্বলতা দূর করার লক্ষ্যে স্যালাইন নেওয়া মাকরুহ। ১৫. ইনসুলিন (INSULINE): ইনসুলিন নিলে রোজা ভঙ্গ হবে হবে না। ১৬. পেশাবের রাস্তায় ওষুধ ব্যবহার (URINARY TRACT): পেশাবের রাস্তায় ওষুধ ইত্যাদি ব্যবহার করলে রোজা ভঙ্গ হবে না। কারণ পেশাবের রাস্তা রোজা ভঙ্গের গ্রহণযোগ্য রাস্তা নয় এবং মূত্রথলি রোজা ভঙ্গের গ্রহণযোগ্য খালি জায়গা নয়। ১৭. যোনিদ্বারে ওষুধ ব্যবহার (VAGINA): যোনিদ্বারে ওষুধ ইত্যাদি ব্যবহার করলে রোজা ভঙ্গ হবে না। ১৮. সিস্টোস্কোপি (CYSTOSCOPY): সিস্টোস্কোপি করলে রোজা ভাঙবে না। অর্থাৎ পেশাবের রাস্তায় ক্যাথেটার লাগালে রোজা ভঙ্গ হয় না। ১৯. গর্ভপাত (ABORTION): ক) এম, আর (M. R): এম, আর করলে রোজা ভঙ্গ হয়ে যায়। সাধারণত রক্তস্রাব শুরু হওয়ার কারণে রোজা ভেঙে যায়। খ) ডি এন্ড সি (D&C): ডি এন্ড সি করলে রোজা ভঙ্গ হয়ে যাবে। যেহেতু এতে বাচ্চার অঙ্গ প্রকাশ পেয়ে যায়, তাই তা গর্ভপাতের হুকুমে হবে এবং রোজা ভেঙে যাবে। ২০. কপার-টি (COPER-T): কপার-টি করলে রোজা ভাঙবে না। তবে কপার-টি লাগিয়ে সহবাস করলে রোজা ভেঙে যাবে এবং কাজা ও কাফফারা উভয়টিই ওয়াজিব হবে। ২১. সা্পোজিটরি-ভোল্টালিন (SUPPOSITORY - VOLTARIN): সাপোজিটরি-ভোল্টালিন ব্যবহার করলে রোজা ভেঙে যাবে। কারণ মলদ্বার দিয়ে কোন কিছু প্রবেশ করলে রোজা ভেঙে যায়। ২২. ডুশ (DOUCHE): ডুশ নিলে রোজা ভঙ্গ হয়ে যাবে। কারণ ডুশ মলদ্বারের মাধ্যমে দেহের ভেতরে প্রবেশ করে। ২৩. প্রক্টোস্কোপি (PROCTOSCOPY): প্রক্টোস্কোপি করলে রোজা ভেঙে যাবে। মলদ্বার দিয়ে নল ঢুকিয়ে এই পরীক্ষা করা হয় এবং সাধারণত নলে পিচ্ছিল জাতীয় বস্তু (গ্লিসারিন) ব্যবহার করা হয়, যা ভেতরে প্রবেশের কারণে রোজা ভেঙে যায়। ২৪. ল্যাপারোস্কোপি-বায়োপসি (LAPAROSCOPY-BIOPSY): পেট ছিদ্র করে যন্ত্র ঢুকিয়ে পরীক্ষা করলে রোজা ভঙ্গ হবে না। তবে যন্ত্রের মধ্যে কোনো প্রকার ওষুধ লাগানো থাকলে এবং তা নাড়িভুঁড়ির যে কোনো জায়গায় পৌঁছালে রোজা ভঙ্গ হয়ে যাবে। ২৫. শিরোদকার অপারেশন (SHIRODKAR OPERATION): শিরোদকার অপারেশন করলে রোজা ভাঙবে না। এটি অকাল গর্ভপাত রোধে জরায়ুর মুখ সেলাই করা। এতে রোজা ভঙ্গের কোনো কারণ নেই।
[আধুনিক মাসায়েলগুলো মুফতি দিলাওয়ার হুসাইন দা. বা. এর ‘ইসলাম ও আধুনিক চিকিৎসা’ বই থেকে নেওয়া হয়েছে।]
তথ্যসূত্র: [১] সুনানে ইবনে মাজাহ; হাদিস নং-১৭৪৫।
[২] কুরতুবী- ২/২৯১।
[৩] কাওয়ায়েদুল ফিকহ।
[৪] সূরা বাকারা-১৮৩।
[৫] হেদায়া- ২১১।
[৬] আলবিদায়া ওয়ান নিহায়া- ৩/২৫৪।
[৭] বুখারী, হাদিস নং- ৩৮।
[৮] বুখারী, হাদিস নং- ৭৪৯২।
[৯] সহীহ ইবনে খুযাইমা- ১৮৮৭।
[১০] আবু দাউদ- ২৩৯৬।
[১১] বাকারা, আয়াত-১৮৩।
[১২] বুখারী, হাদিস নং- ১৯০৩।
[১৩] হেদায়া- ২১১।
[১৪] আল বাহরুর রায়েক- ৬/১২৯।
[১৫] আলফিকহু আলাল মাযাহিবিল আরবাআহ- ১/৮৬৭।
[১৬] আলফিকহু আলাল মাযাহিবিল আরবাআহ- ১/৮৬৭।
[১৭] বাদায়ে ওয়াস সানায়ে- ৪/১৯৩।
[১৮] বাদায়ে ওয়াস সানায়ে-৪/১৯৫।
[১৯] ফিকহ বিশ্বকোষ।
[২০] ঐতিহ্যবাহী দ্বীনি মারকায দারুন্নাজাত সিদ্দিকীয়া কামিল মাদ্রাসা, ডেমরা, ঢাকা- এর রমজানুল মুবারক উপলক্ষে বিশেষ তোহফা (হ্যান্ড বিল) থেকে সংগৃহীত।
[২১] ফাতাওয়া শামি, খণ্ড : ০৩, পৃষ্ঠা : ৩৭৫।
[২২] জাওয়াহিরুল ফিকহ, খণ্ড : ০১, পৃষ্ঠা : ৩৭৮।
[২৩] ফাতাওয়া আল-হিন্দিয়া, খণ্ড : ০১, পৃষ্ঠা : ১৯৯।
[২৪] ফাতাওয়া আল-হিন্দিয়া, খণ্ড : ০১, পৃষ্ঠা : ২০২; জাওয়াহিরুল ফিকহ, খণ্ড : ০১, পৃষ্ঠা : ৩৭৮।
[২৫] ফাতাওয়া আল-হিন্দিয়া, খণ্ড : ০১, পৃষ্ঠা : ২০৩।
[২৬] ফাতাওয়া আল-হিন্দিয়া, খণ্ড : ০১, পৃষ্ঠা : ২০২।
[২৭] ফাতাওয়া শামি, খণ্ড : ০৩, পৃষ্ঠা : ৩৭৫।
[২৮] ইমদাদুল ফাতাওয়া, খণ্ড : ০২, পৃষ্ঠা : ১২৭।
[২৯] ফাতাওয়া শামি, খণ্ড : ০৩, পৃষ্ঠা : ৩৬৭।
[৩০] ইমদাদুল ফাতাওয়া, খণ্ড : ০২, পৃষ্ঠা : ১৭২।
[৩১] ফাতাওয়া দারুল উলুম দেওবন্দ, খণ্ড : ০৬, পৃষ্ঠা : ৪১৭।
[৩২] আহসানুল ফাতাওয়া, খণ্ড : ০৪, পৃষ্ঠা : ৪২৯।
[৩৩] ফাতাওয়া হিন্দিয়া, খণ্ড : ০১, পৃষ্ঠা : ২০২।
[৩৪] জাওয়াহিরুল ফিকহ, খণ্ড : ০১, পৃষ্ঠা : ৩৭৮।
[৩৫] ফাতহুল কাদির, খণ্ড : ০২, পৃষ্ঠা : ৩৩৭।
[৩৬] বুখারি, হাদিস : ১৯৫৯।
[৩৭] ফাতাওয়া শামি, খণ্ড : ০৩, পৃষ্ঠা : ৩৭৪।
[৩৮] ফাতাওয়া হিন্দিয়া, খণ্ড : ০১, পৃষ্ঠা : ২০৩।
[৩৯] মুসান্নাফ ইবনে আবি শায়বা : ৬/২২১।
[৪০] মুসান্নাফ ইবনে আবি শায়বা : ৬/২২০; মুসান্নাফ আবদুর রাজ্জাক : ৪/১৭০।
[৪১] জামে তিরমিজি, হাদিস: ৭৬৬; সুনানে আবু দাউদ ১/৩২২; মুসান্নাফ ইবনে আবি শায়বা, হাদিস: ৯৮৪৪।
[৪২] মুসান্নাফে আবদুর রাজ্জাক ৪/২০৭।
[৪৩] সহিহ বুখারি, হাদিস: ১৯০৪।
[৪৪] বুখারি, হাদিস ১৯৪০।
[৪৫] ফাতাওয়া আলমগিরি ১/১৯৯-২০০, রদ্দুল মুহতার ৩/৩৯৯-৪০০; আল মুহিতুল বুরহানি ৩/৩৫৬।
[৪৬] প্রাগুক্ত।
[৪৭] প্রাগুক্ত।
[৪৮] প্রাগুক্ত।
[৪৯] প্রাগুক্ত।
[৫০] প্রাগুক্ত।
[৫১] সহিহ মুসলিম: ১/২০২, আল বাহরুর রায়েক: ২/২৭১।
[৫২] সুনানে আবি দাউদ: ১/৩২৩, রদ্দুল মুহতার: ২/৩৯৫।
[৫৩] ফতোয়ায়ে শামি: ২/৪০২।
[৫৪] মুসনাদে আহমদ: ২/১৮০ ও ২৫০, ফতোয়ায়ে হিন্দিয়া: ১/২০০।
[৫৫] তিরমিজি: ৭২০, রদ্দুল মুহতার: ২/৪১৪।
[৫৬] মুসান্নাফে আবদুর রাজ্জাক: ৪/৩১৩, আল বাহরুর রায়েক: ২/১৭৩।
[৫৭] রদ্দুল মুহতার: ২/৩৯৬।
[৫৮] মুসান্নাফে ইবনে আবি শায়বা: ৬/২৫৯, ফতোয়ায়ে শামি: ২/৩৯৬।
[৫৯] মুসান্নাফে ইবনে আবি শায়বা: ৬/৩৪৯, রদ্দুল মুহতার: ২/৩৯৫।
[৬০] সুনানে কুবরা, বায়হাকি: ৪/২৬৪।
[৬১] আল মুহিতুল বুরহানি: ৩/৩৪৯।
[৬২] সুনানে কুবরা, বায়হাকি: ৪/২৩৫।
[৬৩] বুখারি ১৯০৩।
[৬৪] সহিহ বোখারি : ১৯০৪।