ইমাম তিরমিযীর সংকলিত হাদীছ গ্রন্থ 'জামি' তিরমিযী নামে খ্যাত। এটি ‘সুনান' নামেও পরিচিত। কিন্তু প্রথমোক্ত নামই অধিকাংশ হাদীছবিদ গ্রহণ করেছেন। ইমাম তিরমিযী তাঁর এই গ্রন্থখানি ইমাম আবূ দাউদ ও ইমাম বুখারীর অনুসৃত গ্রন্থ প্রণয়নরীতি অনুযায়ী সংকলিত করেছেন। প্রথমতঃ তাতে ফিকহের অনরূপ অধ্যায় রচনা করেছেন। সেই সংগে তিনি বুখারী শরীফের ন্যায় অন্যান্য হাদীছও তাতে সংযোজিত করেছেন। বিভিন্ন বিষয়ের জরুরী হাদীছ তাতে সুন্দরভাবে সুবিন্যস্ত করেছেন। হাফিয আবূ জা'ফর ইব্ন জুবাই (মৃঃ ৭০৮ হিঃ) সিহাহ সিত্তাহ সম্পর্কে আলোচনা প্রসংগে বলেছেনঃ ইমাম তিরমিযী বিভিন্ন বিষয়ের হাদীছ একত্র করে গ্রন্থখানি প্রণয়ন করে যে বিশিষ্টতা লাভ করেছেন, তাতে তিনি অবিসংবাদিত। ইমাম তিরমিযী তাঁর এই গ্রন্থ প্রণয়ন সমাপ্ত করে তদানীন্তন মুসলিম জাহানের হাদীছবিদ আলিমগণের নিকট যাঁচাই করার উদ্দেশ্যে পেশ করেন। এ সম্পর্কে তিনি নিজেই বলেছেন : 'আমি এই মুসনাদ (সহীহ সনদ যুক্ত) গ্রন্থখানি প্রণয়ন সম্পূর্ণ করে হিজাযের হাদীছ বিশেষজ্ঞগণের সমীপে পেশ করলাম। তাঁরা তা দেখে খুবই পছন্দ করলেন ও সন্তোষ প্রকাশ করলেন। অতঃপর আমি এ টি খুরাসানের বিশেষজ্ঞগণের খেদমতে পেশ করলাম। তাঁরাও ওটিকে অত্যন্ত পছন্দ করেন ও সন্তোষ প্রকাশ করেন। ইমাম তিরমিযীর এই গ্রন্থখানি সম্পর্কে বলা হয় যে, যার ঘরে এই কিতাবখানি থাকবে, মনে করা যাবে যে, তার ঘরে স্বয়ং নবী করীম (সা.) অবস্থান করছেন ও নিজে কথা বলছেন। তিরমিযী শরীফ সাধারণ পাঠকদের জন্য একখানি সু-পাঠ্য ও সহজবোধ্য হাদীছ গ্রন্থ। শায়খুল ইসলাম হাফিয ইমাম আবূ ইসমাঈল আবদুল্লাহ্ আনসারী (মৃঃ ৪৮১ হিঃ) তিরমিযী শরীফ সম্পর্কে আলোচনা প্রসংগে বলেছেন: “আমার দৃষ্টিতে তিরমিযী শরীফ বুখারী ও মুসলিম গ্রন্থদ্বয় অপেক্ষা অধিক ব্যবহারোপযোগী। কেননা বুখারী ও মুসলিম এমন হাদীছ গ্রন্থ যে, কেবল মাত্র বিশেষ পারদর্শী আলিম ভিন্ন তা থেকে ফায়দা লাভ করতে সমর্থ হওয়া কঠিন। কিন্তু ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযীর গ্রন্থ থেকে যে কেউ ফায়দা লাভ করতে পারে"। ইমাম তিরমিযী থেকে তাঁর এই গ্রন্থখানি যদিও শ্রবণ করেছেন বহু সংখ্যক শাগরিদ; কিন্তু তার বর্ণনা পরস্পরা অব্যাহত ও ধারাবাহিকভাবে চলছে মোট ছয়জন বড় মুহাদ্দিছ থেকে।