সুনানে নাসায়ী - আবূ আবদির রহমান আহমাদ ইব্ন শুআয়ব ইব্ন আলী ইব্ন সিনান ইব্ন দীনার নাসাঈ খুরাসানী
المجتبى من السنن للنسائي

ইমাম নাসাঈ (র) প্রণীত গ্রন্থাবলী ইমাম নাসাঈ (র) অনেক মূল্যবান গ্রন্থ প্রণয়ন করেন। তন্মধ্যে নিম্নলিখিত গ্রন্থগুলো বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। ১. আস-সুনানুল কুবরা, ২. আল-মুজতাবা (সুনানে নাসাঈ). ৩. কিতাবুল খাসাইস ফী ফাদলি আলী ইব্ন আবী তালিব ওয়া আহলিল বায়ত, ৪ কিতাবুদ দুআফা ওয়াল মাতরূকীন, ৫. তাসমিয়াতু ফুকাহাইল আমসার মিন আসহাবি রাসুলিল্লাহি সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লাম ওয়ামান বা'দাহুম মিন আহলিল মাদীনা, ৬, ফাদাইলুস সাহাবা, ৭. তাফসীর, ৮, কিতাবু আ'মালিল যাওমি ওয়াল লায়লা, ৯, তাসমিয়াতু মান লাম য়ারবি আনহু গায়রু রাজুলিন ওয়াহিদিন। সুনানে নাসাঈ-র পরিচয় ও গুরুত্ব ইমাম নাসাঈ (র) প্রণীত গ্রন্থাবলীর মধ্যে নাসাঈ শরীফ সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ। এ গ্রন্থের কারণেই তিনি সমধিক প্রসিদ্ধ। গ্রন্থখানি সমসাময়িককালের অধিকাংশ হাদীস গ্রন্থের সারসংক্ষেপ। প্রথমত তিনি আস-সুনানুল কুবরা' নামে একখানি বৃহদায়তনের হাদীস গ্রন্থ সংকলন করেন যাতে সহীহ ও যঈফ সব রকমের হাদীস লিপিবদ্ধ করা হয়েছিল। পরবর্তীকালে আস-সুনানুল কুবরার কলেবর হ্রাস করে এবং শুধু সহীহ হাদীস অন্তর্ভুক্ত করে। আস-সুনানুল কুবরার সংক্ষিপ্তসার স্বরূপ তিনি আল-মুজতাবা (আস-সুনানুস সুগরা) গ্রন্থ প্রণয়ন করেন। বর্তমানে প্রচলিত আস-সুনান গ্রন্থটিই হলো সেই আল-মুজতাবা। সিহাহ সিত্তাহ গ্রন্থাবলীর মধ্যে সুনানে নাসাঈর স্থান চতুর্থ এবং সুনান গ্রন্থসমূহের মধ্যে দ্বিতীয়। অবশ্য মুহাম্মদ আবদুল আযীয খাওলী (র) তাঁর 'মিফাতাহুস সুন্নাহ গ্রন্থে সিহাহ সিত্তাহর মধ্যে এর স্থান তৃতীয় বলে উল্লেখ করেছেন। সুনান গ্রন্থসমূহের মধ্যে আলোচ্য বিষয় এবং হাদীসের দিক দিয়ে সুনানে নাসাঈ অধিকতর বিশদ ও ব্যাপক। এ গ্রন্থে ৫, ৭৬১টি হাদীস অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। সুনানে নাসাঈ-র বৈশিষ্ট্যাবলী ইমাম নাসাঈ (র)-এর সুনান গ্রন্থটি অনন্য সাধারণ বৈশিষ্ট্যের অধিকারী। নিম্নে এর কয়েকটি প্রধান বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করা হলো ১. ইমাম নাসাঈ (র) তাঁর এ সুনান গ্রন্থে জীবনের সকল দিক সম্পর্কিত ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র শাখা-প্রশাখার হাদীস উল্লেখ করেছেন, এমনকি রুকু-সিজদার তাসবীহ ও দু'আ এবং অন্যান্য সর্ব প্রকারের দু'আ সম্পর্কিত বহু হাদীস এতে বর্ণনা করা হয়েছে। ২. ইমাম নাসাঈ প্রচলিত বিধান অনুযায়ী প্রত্যেক নতুন প্রসঙ্গ ও শিরোনামকে ‘কিতাব’ বলে নামকরণ করেছেন। যথা : কিতাবুত তাহারাত, কিতাবুল জানাইয প্রভৃতি ।। ৩. মাসআলা প্রমাণের জন্য ইমাম বুখারী (র)-এর ন্যায় তিনি এ গ্রন্থে একই রিওয়ায়াতকে একাধিক স্থানে উল্লেখ করেছেন। ৪. এ গ্রন্থে ইমাম নাসাঈ হাদীসের সূত্রগুলোকে সুস্পষ্টরূপে উল্লেখ করেছেন। ৫. এ গ্রন্থে রাবীগণের নাম, উপনাম ও উপাধির অস্পষ্টতা দূর করা হয়েছে। ৬. সুনানে নাসাঈ-র রচনা ও বিন্যাস পদ্ধতি খুবই সুন্দর। হাকিম নিশাপুরী বলেন: “সুনানে নাসাঈ যে মনোনিবেশ সহকারে পাঠ করবে, সে এর অপূর্ব বিন্যাস শেণী দেখে অভিভূত হবে।” (মিফতাহস সা'আদাহ ও সিয়ারু আ'লামিন নুবালা) ৭. এ গ্রন্থে হাদীস সমালোচনার শাস্ত্রীয় পন্থায় সনদ ও মতনের পর্যালোচনা করা হয়েছে। ৮. এ গ্রন্থে দুর্বোধ্য শব্দের ব্যাখ্যা প্রদান করা হয়েছে। ৯. অন্যান্য হাদীস গ্রন্থের তুলনায় ইমাম নাসাঈ-র এ সুনান গ্রন্থে অনেক বেশি বাব(باب) বা পরিচ্ছেদ কয়েছে। এ গ্রন্থে প্রতিটি কিতাব (كتاب) বা অধ্যায়ের অধীনে বিপুল সংখ্যক বাব আনা হয়েছে এবং বাবগুলোও সূক্ষ্মভাবে উদ্ভাবন করা হয়েছে।