ইশরাক:
সূর্যোদয়ের আনুমানিক ১৫ মিনিট পর (যখন সূর্য কিছুটা উপরে ওঠে) যে নামাজ পড়া হয়, তাকে ইশরাক বলা হয়। এটি দিনের প্রথম নফল নামাজ।
ফজিলত:
আনাস ইবনু মালিক রাযিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত: তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি ফজরের নামায জামা’আতে আদায় করে, তারপর সূর্য উঠা পর্যন্ত বসে বসে আল্লাহ তা’আলার যিকর করে, তারপর দুই রাক’আত নামায আদায় করে- তার জন্য একটি হাজ্জ ও একটি উমরার সাওয়াব রয়েছে। আনাস রাঃ বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, পূর্ণ, পূর্ণ, পূর্ণ (হাজ্জ ও উমরার সাওয়াব)। —জামে' আত-তিরমিজী, হাদীস নং ৫৮৬
চাশত বা দুহা:
সূর্য আরও কিছুটা উপরে উঠলে এবং রোদ যখন বেশ কড়া হয় (সাধারণত সকাল ১০টা থেকে জোহরের আগ পর্যন্ত), তখন এই নামাজকে চাশত বা 'সালাতুদ দুহা' বলা হয়।
ফজিলত:
হযরত আব্দুল্লাহ বিন উমর রাঃ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আবু যর রা. এর সাথে আমার সাক্ষাৎ হয়। তখন আমি তাকে বলি যে, হে চাচা! আমাকে কল্যাণী উপদেশ দান করুন। তিনি বললেন, তুমি যেমন আমাকে জিজ্ঞাসা করেছো, তেমনি আমিও রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে এমনটি জিজ্ঞাসা করেছিলাম। তখন তিনি বলেছিলেন, যদি তুমি চাশতের নামায দুই রাকাত পড়, তাহলে তোমাকে গাফেলদের মাঝে গণ্য করা হবে না। আর যদি চার রাকাত পড়, তাহলে তোমাকে নেককারদের মাঝে গণ্য করা হবে। আর যদি তুমি ছয় রাকাত পড়, তাহলে তোমাকে আনুগত্যকারীদের অন্তর্ভূক্ত করা হবে। আর যদি তুমি আট রাকাত পড়, তাহলে তোমাকে সফলকাম ব্যক্তিদের তালিকায় লেখা হবে। আর যদি দশ রাকাত পড়, তাহলে সেদিন তোমার আমলনামায় কোন গোনাহ লেখা হবে না। আর যদি বার রাকাত পড়, তাহলে তোমার জন্য জান্নাতে তোমার জন্য একটি ঘর নির্মাণ করা হবে। [সুনানুল কুবরা লিলবায়হাকী, হাদীস নং-৪৯০৬, মাযমাউয যাওয়ায়েদ, হাদীস নং-৩৪১৮, ১৯, মুসনাদুল বাজ্জার, হাদীস নং-৩৮৯০]