তারাবি নমাজ পড়িয়ে টাকা নেয়া কি জায়েয। তবে বিনিময় ছাড়া তারাবি পড়ানো উত্তম।
ইমামতি করে টাকা নেওয়া জায়েয। কুরআন-হাদিস শিক্ষা দিয়ে, আযান দিয়ে এবং ওয়াজ করেও টাকা নেওয়া জায়েয। এগুলো ইবাদাত। আর ইবাদাত করে টাকা নেওয়া জায়েয না হলেও এ কাজগুলো করে টাকা নেওয়া জায়েয। এর অন্যতম কারণ হ”েছ এসময়ে ‘হাবস’ বা ‘আটকে রাখা’ হয়। এঁরা চাইলেও এ সময়ে অন্য কাজ করে রোজগার করতে পারে না। অনুরূপ তারাবি পড়া ইবাদাত হলেও হাফেজ সাহেব রমজান মাসে এশার পর চাইলেও অন্য কোথাও রোজগারের জন্য যেতে পারে না। পুরো মাস তাকে হাবস করা (আটকে রাখা) হয়। তাই এ সময়ের বিনিময়ে তাকে মজুরি দেয়া জায়েয এবং তার জন্য মজুরি গ্রহণ করাও জায়েয। হাফেয সাহেবের জন্য তারাবি পড়া ইবাদা হলেও এশার পর পর পড়া আবশ্যক নয়; তিনি চাইলে মাঝ রাতে বা শেষ রাতেও পড়তে পারেন। কিš‘ হাবস থাকার কারণে তিনি তা পারেন না।
এখানে তেলোয়াত বিক্রয় করা হয় না। আজিরে খাস যেমন নির্ধারিত সময়ে নিজেকে কাজের জন্য প্র¯‘ত রাখলে কাজ থাকুক বা না থাকুক মজুরি পাবেই। কারণ তাকে কর্মঘণ্টায় অন্য কোথাও রোজগার করার সুযোগ দেয়া হয় না। রমযানে হাফেয সাহেবগণ আজিরে খাসের ভূমিকায় থাকেন। তাই তারা তারাবি পড়িয়ে টাকা নিতে পারবেন। তবে কেউ যদি তেলোয়াত বিক্রয় তথা তেলোয়াত নামক ইবাদাত বিক্রয় করার নিয়ত করে তাহলে তা জায়েয নয় এবং এর মজুরিও নেওয়া জায়েয নয়। (সাধারণত এমন নিয়ত কেউ করে না)। তবে কেই যদি কোনো প্রকার বিনিময় ছাড়াই তারাবি পড়ায় তাহলে তা খুবই উত্তম কাজ।
(আদ-দুররুল মুখতার ৬/৫৫; মাজমাউল আনহুর ফী শরহি মুলতাকাল আবহুর: ৩/৫৩৩; ইমদাদুল ফাতাওয়া ১/৪৮৪; ইমদাদুল মুফতীন: পৃষ্ঠা ৩৬৫।)
আল্লামা রুহুল আমিন বশিরহাটি র. রচনাবলির ১৩ তম খণ্ডের শুরুতে ‘খতম ও যিয়ারতের উজরতের মিমাংসা’ শিরোনামে আলোচনাটি দেখতে পারেন।
মালেকী মাযহাবে উজরত আলাত তআত তথা ইবাদাতের বিনিময় গ্রহণ করা জায়েয আছে।
(রওদাতুত তালিবীন: ৫/১৯১; মুগনিল মুহতাজ: ৩/৬৯)