৬২০
মসজিদ বিরান করা
প্রশ্নঃ ৬২০. আমাদের গ্রামের মুরুব্বীরা ১৯৫৪ সালে সবার সম্মিলিত দানে একটি মসজিদ নির্মাণ করেন। দীর্ঘ সময় পর মসজিদের আশপাশে জনবসতি বৃদ্ধি পাওয়ায় একদল মানুষ যাতায়াতের পথ সংকীর্ণ হওয়া এবং সংলগ্ন বাড়িঘরের কোলাহলে ইবাদতে বিঘ্ন ঘটার অজুহাত তুলে নতুন একটি মসজিদ নির্মাণের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেন। ফলশ্রুতিতে, ২০১৬ সালে একটি কাতার ভিত্তিক বিদেশি দাতব্য সংস্থার সহায়তায় পুরনো মসজিদ থেকে মাত্র ৫০ ফুট দূরত্বে একটি নতুন মসজিদ নির্মিত হয় এবং পুরাতন মসজিদের অযত্নে ফেলে রাখে।
নতুন মসজিদটি চালু হওয়ার পর গ্রামের অধিকাংশ মুসল্লি পুরনো মসজিদ ছেড়ে সেখানে নামাজ পড়া শুরু করেন, পুরাতন মসজিদে আজান দেওয়া ও নামাজ পড়া বন্ধ করে দেয়। অন্যদিকে, গ্রামের মানুষের অন্য আরেকটি অংশ পুরনো মসজিদের ঐতিহ্য ও পবিত্রতা রক্ষায় সেখানে আজান ও জামাত অব্যাহত রাখেন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে গ্রামবাসী আজ দুই ভাগে বিভক্ত। এমনকি এক পক্ষ অপর পক্ষের মসজিদে নামাজ হওয়া নিয়ে সংশয় ও নেতিবাচক মন্তব্য ছুড়ে দিচ্ছে। এই অস্বস্তিকর পরিস্থিতিতে ইসলামের সঠিক বিধান কি? এবং কোন মসজিদে নামাজ পড়া অধিকতর শ্রেয়? তা জানা জরুরি হয়ে পড়েছে।"
এই বিষয়ে বিস্তারিত বললে উপকৃত হয় সম্মানিত উস্তাদগণ।
কোন একটি জায়গায় মসজিদ একবার হয়ে গেলে কিয়ামত পর্যন্ত তা মসজিদ হিসেবে বাকি থাকে। তাই তাতে সবসময় আযান ইকামত নামায চালু রাখতে হবে।
এসব অজুহাতে একটি মসজিদকে বিরান করে অন্য মসজিদ তৈরি করা কোনোভাবে জায়েয নয়।
এখন আপনাদের কর্তব্য হলো দুটি মসজিদকেই আবাদ রাখা। দু জায়গাই আযান এবং নামায জারি রাখা।
لا يجوز نقض المسجد ولا بيعه ولا تعطيله وان خربت المحلة (تفسير قرطبى، سورة بقرة، الآية-114-1/7، تفسير المراغى-1/198، تفسير بيضاوى-1/386)
وعن عطاء: لما فتح الله تعالى الأمصار على يد عمر رضى الله عنه أمر المسلمين أن يبنوا المساجد وأن لا يتخذوا في مدينة مسجدين يضارّ أحدهما صاحبه. (الكشاف عن حقائق غوامض التنزيل، سورة توبة، الأية-107-2/214، تفسير روح المعانى-11/21، تفسير قرطبى-175/1)